রাজধানীর কল‌্যাণপুরে শ‌্যামলী পরিবহনের বাসের জন‌্য অপেক্ষা করছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আশিক তালুকদার।

নওগাঁগামী বিকাল সাড়ে ৩টার বাসের টিকেট কাটা ছিল তার। তবে সাড়ে ৫টায়ও সেই বাস আসেনি কাউন্টারে। নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই কাউন্টারে আসা আশিকের চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।

জানতে চাইলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৩টার গাড়িই এখনও ছাড়েনি, আমার সাড়ে ৩টার গাড়ি কখন যে আসবে, জানি না। কাউন্টারের লোকজন যানজটের কথা-ই বলতেছে।”

দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাসগুলোর টার্মিনাল গাবতলী হলেও এর অধিকাংশই কল‌্যাণপুরের কাউন্টারগুলো থেকে যাত্রা শুরু করে।

চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দক্ষিণ-পূর্বের বাসগুলো যাত্রা শুরু করে গাবতলীর বিপরীত প্রান্তের সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে। সেখানকার চিত্রও গাবতলীর মতোই।

বেলা ১১টায় ফেনীগামী স্টার লাইন পরিবহনের কাউন্টারে বাসের অপেক্ষায় থাকা মো. কামাল হোসেন জানালেন, তার বাস ছাড়ার সময় ছিল সাড়ে ৯টায়। কিন্তু বাস না আসায় রওনা হতে পারেননি।

“রোদে এতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি। কিন্তু গাড়ি নাই। বাচ্চারা খুব কষ্ট পাচ্ছে,” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন তিনি।

ঈদযাত্রার প্রথম দিনে রাজধানীর বড় দুই টার্মিনালে গিয়েই বাসের জন‌্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের।

ঈদের ছুটি রোববার শুরু হলেও আগের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার অফিস শেষে দুপুরের পর থেকেই মানুষকে ছুটতে দেখা যায় বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন ও লঞ্চ ঘাটের দিকে।

স্বীকৃত কোনো হিসাব না থাকলেও ধারণা করা হয়, দেড় কোটি মানুষের শহর ঢাকার অর্ধ কোটির মতো মানুষ স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে নগরী ছাড়ে।

বর্ষা পেরুলেও এবার মহাসড়কের অবস্থা খারাপ নয় বলেই তথ‌্য আসছে, তার মধ্যেও যানজটের দোহাই দিচ্ছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

নদী ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়ায় বেশির ভাগ ফেরি ঘাট অচল হয়ে পড়ার কারণে টাঙ্গাইল মহাসড়কে চাপ বাড়ার বিষয়টি উত্তরের পথে যানজটের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

তবে চট্টগ্রামের পথে সেই ধরনের কোনো দুর্বিপাক না থাকার পরও চার লেইনের মহাসড়কে যানজটের কারণ খুঁজে না পাওয়া যাত্রীদের অনেকে পুলিশের গরুর ট্রাক থামিয়ে চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছেন।

সায়েদাবাদের বাসগুলোর মধ‌্যে এনা পরিবহনের মানিকনগর কাউন্টারে সকাল ৭টা বাসের দেখা বেলা ১২টায়ও না পাওয়া চট্টগ্রামের যাত্রী সিদ্দিকুর রহমান ফরাজি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মহাসড়কে এটা ‘কৃত্রিম’ যানজট।

“গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজি করার জন্য পুলিশ এ জ্যাম লাগিয়েছে। চার লেন হওয়ার পর ওই সড়কে যানজট থাকার কোনো কারণ নেই।”

চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন পরিবহনের কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দাউদকান্দি ও মেঘনাঘাট এলাকায় যানজটের কারণে তাদের অনেক বাস দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় ফিরতে পারেনি।

ফলে সকালে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও আশপাশের বিভিন্ন কাউন্টারে এসে নির্ধারিত বাস না পেয়ে অপেক্ষায় থাকতে হয় দক্ষিণ জনপদের বিভিন্ন গন্তব‌্যের যাত্রীদের; গরমের মধ‌্যে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাবেন বলে সকাল ১০টার গাড়ি ধরতে কাউন্টারে এসেছিলেন বেসরকারি চাকুরে মাহবুব শোভন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গাড়ির দেখা না মেলায় তাকে মাইক্রোবাস ভাড়া করতে দেখা যায়।

“গাড়ি কখন আসবে বলতে পারছে না এরা। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে এভাবে রাস্তায় বসে থাকা যায় না। টিকেট ফেরত দিয়ে সাড়ে আট হাজার টাকায় মাইক্রোবাস ভাড়া করেছি,” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন তিনি।

স্টার লাইনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান জানান, তাদের গাড়ি যানজটে আটকে থাকায় আসতে দেরি হচ্ছে। তাই যাত্রীদের তারা কোনো ‘আশার কথা’ শোনাতে পারছেন না।

“ঢাকায় ২১টা বাস ছিল, সেগুলো ঠিক সময়েই ছেড়ে গেছে। কিন্তু সাড়ে ৯টার পর আর কোনো গাড়ি আমরা ছাড়তে পারিনি। ফেনী থেকে ছেড়ে আসা গাড়ি না আসলে ছাড়ব কীভাবে?”

গাড়ির অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা যাত্রীদের দেখা মিলল নোয়াখালীর একুশে পরিবহনের কাউন্টারেও। বেলা ১২টা পর্যন্ত এ পরিবহনের ১৮টি বাস ঢাকা ছেড়েছে বলে জানান কাউন্টার ব্যবস্থাপক সোহেল রানা।

“এগুলো ঢাকায় ছিল বলে ছাড়তে পেরেছি। ওই দিক থেকে গাড়ি না আসায় এরপর আর গাড়ি ছাড়তে পারব না। যাত্রীদের টিকেট ফেরত দিতে হবে।”

ওই সময় কাউন্টারে উপস্থিত হওয়া একুশে পরিবহনের চালক মোহাম্মদ আরাফাত জানান, বুধবার রাতে নোয়াখালী থেকে গাড়ি ছেড়ে ঢাকায় আসতে ১০ ঘণ্টা লেগেছে তার।

“এই রাস্তা আসতে এমনিতে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগে। কিন্তু আজকে দাউদকান্দি থাইকা মেঘনাঘাট পর্যন্ত জ্যাম। ১০ ঘণ্টা লাগল। আমি তো তাও আসতে পারছি, অন্যরা কখন আসে ঠিক নাই।”

এই মহাসড়কে যানজটের বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বুধবার রাতে মুন্সীগ

Post a Comment Blogger

 
Top