যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভালো নেতা বলে ঘোষণা দিয়েছেন আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার রাতে এনবিসি টেলিভিশনের ‘কমান্ডার ইন চিফ’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি ও রয়টার্স।

আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ নিজ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর এদিন ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী প্রথমবারের মতো একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হন।

নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দুই প্রার্থীর জন্য আধঘন্টা করে সময় বরাদ্দ ছিল, একজনের সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর অপরজনের ডাক পড়ে। তবে টস ভাগ্যে ডেমোক্র্যা্টিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন প্রথমে সুযোগ পান।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন হিলারি। ওই সময় রাষ্ট্রীয় ইমেইল পাঠানোর কাজে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করেছিলেন হিলারি। যা নিয়ে তাকে এফবিআইয়ের তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়।

এফবিআই তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ না আনলেও সংস্থাটির পরিচালক রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর গোপন নথি ব্যবহারের ক্ষেত্রে হিলারি ‘অত্যন্ত অসতর্ক’ ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন।

সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে চাপের মুখে পড়েন হিলারি। নৌবাহিনীর এক সাবেক কর্মকর্তা তাকে বলেন, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো করে গোপন তথ্য আদান-প্রদান করতেন তাহলে তাকে কারাগারে যেতে হত।

উত্তরে হিলারি বলেন, “আমি তাই করেছি যা আমার করা উচিত ছিল এবং আমি সবকিছু অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি, আমি সব সময় সিরিয়াস ছিলাম, সবসময় তা থাকবো।”

২০০২ সালে সিনেট ভোটে ইরাক যুদ্ধকে সমর্থন করা তার ‘ভুল’ ছিলে বলে সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন হিলারি।

অপরদিকে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ট্রাম্পকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে প্রশংসা করে বলা আগের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে ট্রাম্প বলেন, “৮২ শতাংশ জনমত তার পক্ষে। নিজ দেশের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ব্যাপক।”

তিনি আরো বলেন, “তিনি যদি আমার সম্পর্কে ভালো কিছু বলেন, আমিও তার সম্পর্কে ভালো কিছু বলবো। নিশ্চিতভাবে ওই পদ্ধতিতে তিনি একজন নেতা, আমাদের প্রেসিডেন্ট থেকে অনেক ভালো নেতা।”

এর আগে পুতিনের প্রশংসা করে তার সঙ্গে জোট গড়ে ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) পরাজিত করার প্রস্তাব করেছিলেন ট্রাম্প। তার এই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বিস্মিত হয়েছিলেন। কারণ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক অনেক নীতির বিষয়েই রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর মতভেদ আছে।

Post a Comment Blogger

 
Top